ঢাকা, ২৩ মার্চ – করোনাভাইরাসের মধ্যেই আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল। আফ্রিকার কয়েকটি দেশের পর পাকিস্তান এবং সর্বশেষ ভারতে আক্রমণ চালানোর পর বাংলাদেশেও পঙ্গপালের আক্রমণ হতে পারে, এমন আশংকার কথা বলছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। পঙ্গপাল সংকটের কারণে ১০ দেশের কয়েক লাখ মানুষকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এমন দাবিই করেছেন বলে গার্ডিয়ানে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
পঙ্গপালের জন্ম ইয়েমেন ও ওমানে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পতঙ্গ বিশেষজ্ঞ কেইথ ক্রিসম্যান দাবি করেন, যখন সেখানকার পরিবেশ শুষ্ক হয়ে যাচ্ছিল, তখন অঞ্চলটিতে একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে নতুন একটি প্রজন্মের পঙ্গপালের বিস্তার সহজ করে দেয়। কাজেই পতঙ্গটির বিস্তার সেখানে চারশ গুণ বৃদ্ধি না পেয়ে আট হাজার গুণ বেড়ে যায়।
তার মতে, একটি ঘূর্ণিঝড় পঙ্গপালের বিস্তারকে অন্তত ছয় মাসের জন্য অনুকূলে এনে দেয়। এর পর যখন তার আবাস শুষ্ক হয়ে যায়, তখন পতঙ্গটির প্রজনন প্রতিকূলে চলে যায়। এর পর হয় তারা মারা যায় কিংবা অন্যত্র চলে যায়।
ক্রিসম্যান বলেন, এ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়ে গেছে। যাতে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপালের বিস্তার স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হুশিয়ারি, পঙ্গপালের কারণে অন্তত আড়াই কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে যাবে। আর পঙ্গপাল পর্যবেক্ষণ বিভাগ লোকাস্ট ওয়াচের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অন্তত ১০ দেশে এই পতঙ্গটি দেখা গেছে। কেনিয়ার একটি এলাকায় এমন একটি ঝাঁক শনাক্ত হয়েছে। ওই এলাকাটি লুক্সেমবার্গের আকারের মতো হবে।
কাজেই এই পতঙ্গের বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ১৪ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে সংস্থাটি। পূর্বাভাস দিয়ে বলেছে– জুনের দিকে পঙ্গপালের বর্তমান সংখ্যা ৪০০ গুণ বেড়ে যাবে।
কাজেই পরিস্থিতির অবনতি গত কয়েক দশকের তুলনায় বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগের যে কোনো পঙ্গপাল মহামারীর তুলনায় তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন ও ইয়েমেন যুদ্ধ বড় অনুঘটকের ভূমিকা রাখতে পারে।