[ad_1]
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনসহ দলটির মামলা জর্জরিত নেতাকর্মীদের হাজারো মামলায় দিনের পর দিন আদালতে লড়ে এসেছেন তিনি। অনেকের মামলা চালাতে পারিশ্রমিকও নিতেন না। সেই আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া গুরুতর অসুস্থ। আইনি সহায়তা পেতে সানাউল্লাহর কাছে একসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের আনাগোনা থাকলেও এখন তার সময় কাটছে একাকী। গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে রাজধানীর গ্রীন রোডের বাসায় বিএনপির কেন্দ্রীয় এই আইন সম্পাদকের সময় কাটছে একেবারেই নিভৃতে।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে অসুস্থ সানাউল্লাহ মিয়া। শক্তি হারিয়েছেন ডান হাতের। জোর কমে গেছে ডান পায়ের। বাম হাত আর পা অনেকটা ভালো আছে। তাতেই লাঠি ভর করে অন্যের সাহায্য নিয়ে জরুরী প্রয়োজন সারতে হয় একসময়ে আদালত পাড়ায় দৌঁড়ঝাঁপ করা এই আইনজীবী।
হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর দীর্ঘ আটমাস সিআরপিতে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। সেখানকার চিকিৎসকরা বলছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ সময় লাগবে।
শনিবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে বলেন, ‘কোনো ব্যস্ততা নেই। সুস্থ হওয়ার চেষ্টা চলতেছে। কতটুকু সুস্থ হতে পারবো জানি না, ডাক্তার বলছেন সময় লাগবে। তবে গেল বৃহস্পতিবার একটি মামলার কাজে সুপ্রিমকোর্টে যেতে হয়েছিল।’
প্রায় তিনযুগ ধরে আইনী পেশার পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সানাউল্লাহ মিয়া। ১৯৭৯ সালে ঢাকা সিটি কলেজে ল’ পড়ার সময়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক, ১৯৮০ সালে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন তিনি। ১৯৮২ সালে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে আমাকে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য করা হয়।
১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ আইনজীবী হওয়ার পর আমি ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের সহ-আইন সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালে মহানগরের আইন সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে তিন মাসের জন্য ঢাকা জজকোর্টে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) করা হয় তাকে। তখন তার দায়িত্ব ছিলো সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা।
দলের জন্য আইন অঙ্গণে ও রাজপথে সক্রিয় সানাউল্লাহ মিয়া নিজ এলাকা নরসিংদী-৩ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় থেকে মনোনয়ন নেয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়নের দেখা পাননি।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পাবেন এটা অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন সানাউল্লাহ মিয়া এবং তার অনুসারীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বঞ্ছিত হন তিনি। গুঞ্জন আছে, দলের এই সিদ্ধান্তে বেশ আহত হন তিনি। এর কিছুদিন পরেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
জানা গেছে, অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কেউ হাসপাতালে, কেউ আবার বাসায় গিয়ে তার খোঁজ নিয়েছেন। তবে অন্যান্য সময় দলের অসুস্থ নেতাদের নিয়ে দোয়ার আয়োজন করতে দেখা গেলেও তার বেলায় তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা খোঁজ নেন। মহাসচিব হাসপাতালে এসে খোঁজ নিয়েছেন। সবার কাছে দোয়া চাই যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারো আদালতে কাজ করতে পারি।’
[ad_2]