যখন ত্বকে অতিরিক্ত সিবাম নিঃসৃত হয় তখন ত্বক তৈলাক্ত হয়ে ওঠে। এই সিবাম ত্বকের ছিদ্রগুলি বন্ধ করে দিতে পারে যা সংক্রামিত হয়ে গেলে পিম্পল হয়ে যায়। পিম্পলগুলি আপনার কপাল, গাল, এমনকি নাকের উপরেও হতে পারে। যদি সঠিকভাবে এর যত্ন না নেওয়া হয় তবে পিম্পলগুলি দীর্ঘকাল স্থায়ী হতে পারে এবং ত্বকে কালো ও স্থায়ী দাগ তৈরি হতে পারে। তাই, তৈলাক্ত ত্বকে প্রদর্শিত পিম্পলগুলি কীভাবে প্রতিরোধ করবেন তা অবশ্যই আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। তাই এখানে, আমরা এমন কিছু প্রতিকার উল্লেখ করেছি যেগুলি তৈলাক্ত ত্বকে পিম্পল নিরাময়ে সহায়তা করতে পারে। দয়া করে মনে রাখবেন যে এই প্রতিকারগুলি নির্দিষ্ট ত্বকের ধরনের জন্য তৈরি। এগুলি সমস্ত ত্বকের ক্ষেত্রে কাজ নাও করতে পারে।
লেবু
লেবুতে থাকা ভিটামিন সি তৈলাক্ত ত্বকের পিম্পল নিরাময়ে সহায়তা করে, পাশাপাশি এটি ত্বককে উজ্জ্বল করতেও সহায়তা করে।
উপকরণ
ক) ১ টেবিল চামচ লেবুর রস
খ) তুলোর বল
কীভাবে ব্যবহার করবেন
লেবুর রসে তুলোর বলটি ভিজিয়ে রাখুন এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে সেই জায়গায় বা আপনার মুখের উপরে এটি লাগান। পুরো রাত এটি রেখে দিন এবং পরের দিন সকালে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। না সারা পর্যন্ত আপনি এই প্রতিকারটি নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন।
বেসন ও দইয়ের ফেস প্যাক
তৈলাক্ত ত্বকে পিম্পল থেকে মুক্তি পেতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকর। বেসন ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে ত্বকের উজ্জলতা ধরে রাখে। দইতে ল্যাকটিক অ্যাসিড রয়েছে যা ত্বকের মৃত কোষগুলি অপসারণ করে এবং ত্বক উন্নত করতে সহায়তা করে।
উপকরণ
১ টেবিল চামচ বেসন
১-২ টেবিল চামচ দই
১ চা চামচ
মধু এক চিমটে হলুদ
কীভাবে ব্যবহার করবেন
একটি পাত্রে বেসন এবং দই নিয়ে দুটো উপাদানই ভাল করে মিশিয়ে নিন। এরপর তাতে মধু এবং এক চিমটি হলুদ দিন। এরপর সমস্ত উপাদান ভালভাবে মেশান। তারপর, প্যাকটি আপনার মুখে ভালভাবে লাগান এবং প্রায় ২০ মিনিট রেখে দিন। ২০ মিনিট পরে সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে পারেন।
বেকিং সোড
বেকিং সোডা ত্বকের মৃত কোষ এবং ময়লা দূর করতে সাহায্য করে যার ফলে ত্বক স্বাস্থ্যকর এবং কোমল হয়। লেবুর সঙ্গে এটি মিশ্রিত হলে তা পিম্পল নিরাময়ে ভালভাবে কাজ করে।
উপকরণ
ক) ১ চা চামচ বেকিং সোডা
খ) কয়েক ফোঁটা লেবুর রস
কীভাবে ব্যবহার করবেন
একটি পাত্রে বেকিং সোডা নিন এবং তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিন। এরপর উভয় উপাদান ভালভাবে মিশিয়ে নিন। পেস্টটি অল্প পরিমাণে আক্রান্ত জায়গায় প্রয়োগ করুন এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। পরে এটি গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং শুকনো করে নিন। দ্রুত এবং ভাল ফলাফলের জন্য এই প্রতিকারটি প্রতিদিন দু’বার করুন।
মধু এবং দারুচিনি
মধুতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য থাকার জন্য এটি অত্যন্ত উপকারি হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি এটি ত্বককে হাইড্রেট করতেও সহায়তা করে যাতে আপনার ত্বককে কম তৈলাক্ত দেখায়। দারুচিনি ত্বকে যেকোনও ধরনের সংক্রমণ বা অ্যালার্জি নিরাময়ে সহায়তা করে।
উপকরণ
ক) ১ টেবিল চামচ মধু
খ) ১ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো
কীভাবে ব্যবহার করবেন
মধু এবং দারচিনি গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এরপর, আক্রান্ত স্থানে এই পেস্টটি প্রয়োগ করুন। ঘুমোতে যাওয়ার আগে এটি করুন এবং সারা রাত মুখে রেখে দিন। পরের দিন সকালে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন এবং শুকনো করে নিন। না সেরে ওঠা অবধি আপনি প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই প্রতিকারটি ব্যবহার করতে পারেন।