কুড়িগ্রাম, ২৩ মার্চ – কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বালিয়ামারী বর্ডার হাটের বিক্রেতা নিয়োগের আবেদনপত্র জমা নেওয়ার সময় জনপ্রতি ১০০ টাকা করে অবৈধভাবে আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রায় আড়াই হাজার আবেদনকারীর কাছ থেকে আদায় করা হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
সরকারিভাবে এভাবে টাকা আদায় করতে পারেন না ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা)। তাহলে কেন তিনি অবৈধভাবে ওই টাকা আদায় করলেন এবং ওই অর্থ এখন কার কাছে জমা রয়েছে, কোন খাতে টাকাগুলো ব্যয় করা হবে-এমন প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
উল্লেখ্য, রাজীবপুরের বালিয়ামারী বর্ডার হাটে বিক্রেতা ২৫ থেকে ৫০ জনে করার লক্ষে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আবেদনের নোটিশ প্রদান করা হয় চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে। আবেদনের শেষ তারিখ গতকাল রবিবার শেষে দেখা গেছে প্রায় আড়াই হাজার আবেদন জমা পড়ে। আবেদন জমা নেওয়ার সময় ইউএনও’র কার্যালয়ের অফিস সহকারী মিজানুর রহমান জনপ্রতি ১০০ টাকা করে আদায় করেন। সরকারিভাবে এবং বর্ডার হাটের নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনপত্র জমা নেওয়ার সময় এভাবে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। ইউএনও মেহেদী হাসান তার একক সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে ওই টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আবেদনকারি অনেকেই অভিযোগ করেন, জনপ্রতি ১০০ টাকা করে না দিলে আবেদন গ্রহণ করেন না। টাকা দেওয়ার সময় আমরা রশিদ চাইলেও দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। কোনো উপায় না পেয়ে আমরা ১০০ টাকা করে দিতে বাধ্য হয়েছি।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক আবেদনকারী জানান, সরকারি কোনো নিয়ম না থাকলে এভাবে টাকা আদায় করে সেই টাকা ইউএনও তার পকেটে ভরেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, আবেদনের সময় অর্থ নেওয়ার বিষয়টি আমার না। এটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেব জানেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো বলেন, উল্টা কথা। ইউএনও সাহেব প্রথমে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করছিল। বিষয়টি জানার পর আমি নিজে গিয়ে তা নিষেধ করেছি। তারপরও ১০০ টাকা করে আদায় করেছে এটা সত্য।
[ad_2]