বুধবার, এপ্রিল ২, ২০২৫

আজ ‘বটবৃক্ষে’র কথা’ই বলি …..

Must read

[ad_1]

https://paathok.news/
.

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী 
এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী তখনো ‘জননেতা’ হননি। মাঠের কঠিন দুঃসময়। দলের মিছিল সমাবেশ শেষে পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ছুটে গেলেন এক অগ্রজ নেতার বাসায়। খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করে চৌধুরীর। নেতা তাঁকে চার ঘণ্টা বসিয়ে রেখে ভাত খাওয়ানো দূরের কথা, হালকা নাস্তাও দেননি । অথচ আগেই বলে গিয়েছিলেন, মিছিল শেষে নেতার বাসায় গিয়ে খাবেন। নেতা কথা রাখলেন না। অনেকটা অপমানিত হয়ে নিজ ঘরে ফিরে গিয়ে সেই দিনের তরুণ নেতা মহিউদ্দিন শপথ করলেন, তাঁর নিজের ঘরে আসা কাউকে কখনো’ই এভাবে খালি মুখে যেতে দেবেন না ।
সেই থেকে যেন প্রাত্যহিক লঙ্গরখানা বা কর্মীবান্ধব চশমা হিলের বাড়িটি। ধনী-দরিদ্র যেই আসুন না কেন, না খেয়ে যেতে দেন নি জনাব চৌধুরী।
নিজ দলের মমতাহীন নেতার আচরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে এভাবেই ঘরোয়া সংযোগ ছিল গণমুখী নেতা হয়ে ওঠা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
জানিনা, একথা এই দুই নেতার’ই নেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো শুনেছেন কিনা। মহিউদ্দিন পুত্র প্রিয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেল বিষয়টি কখনো না শুনলেও বিম্য়য়ের কিছু থাকবে না।
তবে বিষয়টি আমি জানি। জনাব চৌধুরী নিজ মুখেই আমাকে বলেছিলেন। হয়তো আমার মতো আরো কাউকে কাউকে তিনি বলে থাকতে পারেন।
নওফেল এ বিষয়টি না জেনে থাকলে আশ্চর্য হবোনা। কেননা নওফেল যখন শিক্ষার্থী, কিংবা প্রথম পেশায় যুক্ত হলেন কিংবা দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করলেন : তার অর্থাৎ জীবনের এসব পর্বের নানা দিকও খোদ বেডরুমে বসেই আলোচনায় ঘনিষ্ঠদের জানাতেন জননেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী। জানাতেন নিজের কোন কোন স্বপ্ন হননের কথাও। আমার মনে হয়, মহিউদ্দিন পুত্র ব্যারিস্টার নওফেল রাজনীতির অন্দর ভাগের বাবার এই শিক্ষাটির কথা জানেন না। জেনে থাকলে চশমা হিল হয়তো আগের গতিতেই থাকতো।
আজ সেই চৌধুরী নেই। কিন্তু তাঁর অনেকটা বন্ধু সমতুল্য সেই আপ্যায়ন না করানো অগ্রজ নেতা এখনো আছেন।‌ তিনি আমার বাবার বয়সী লোক। সম্মান রেখেই বলতে হয়।তাই নাম লিখতে চাই না। তবে, আমাকেই বলতে হবে কথাগুলো।
জানি, অনেকেই ক্ষমতার জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিয়ে নিশ্চুপ । অনেকের পদ-পদবী চাওয়া-পাওয়া আছে। তাই তাঁরা চুপ করে থাকেন। কিন্তু, আমি যে চুপ করে থাকতে পারিনা !
কি আর করা, বলতেই হয় ! ক্ষমতা প্রতাপে সব সময় সব মানুষের মুখ বন্ধ রাখা যায় না।
এই করোনা বিদ্ধ দুঃসময়ে সাবেক মন্ত্রী সেই
নেতাটির এখন খোঁজ নেই বললেই চলে ! তিনি প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন, এখন অনেকটা সিনিয়র নেতাশূণ্য চট্টগ্রামে আরো প্রভাবশালী ও অনিবার্য নেতা হয়েছেন ! দফায় দফায় এমপি হয়েছেন। কিন্তু নিজের এলাকার দু-চারজন সাংবাদিক ছাড়া গণমাধ্যমের কারো সাথে তেমন একটা যোগাযোগও রাখেননি এত বছরেও! চট্টগ্রাম শহরের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠে ব্যবসা-বাণিজ্য বিনোদন নেতৃত্ব সবকিছুর সুফল নিলেও শহরের বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি, নাগরিক প্রতিনিধিদের সাথে তাঁর তেমন কোন সংযোগ নেই ! শহরের ডিসি হিলকে সাংস্কৃতিক বলয় করার স্বপ্ন দেখিয়েও কথা রাখেননি । পর্দার আড়ালে থেকে ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করেই দেন। বন্দর শহরের প্রতিনিধিত্বশীল পেশাজীবী কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের কাউকে ডেকে পাশে বসিয়ে তিনি চা খাইয়েছেন বলে আমার জানা নেই, শহরের সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগতো অনেক দূরের কথা !
তবুও আমরা এমন নেতাদের দেখে বিনয়ে নত হই। মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়টির কারণে শ্রদ্ধায় মাথা ন্যুয়ে চলি।‌ কালে ভদ্রে জাতীয় দিবস বা উৎসবের সুযোগে একমঞ্চে পাশাপাশি বসি, আলোচনা করি। অবশ্য অনেক রহস্যময়তার কথাও আছে জানা। সেই প্রসঙ্গ আজ থাক। সে সব অন্য কখনো না হয় বলি।
ভাবুন তো, আজ এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকলে এই করোনা বিদ্ধ সময়ে কেমন আহাজারী করতেন সাধারণ মানুষের জন্য ! রাত দিন কত কাজ’ই না করতেন।
চট্টগ্রাম শহরবাসীর এখন প্রশ্ন,
আলোচ্য বর্তমান শক্তিধর নেতা বা তেনারা এখন এই বৈশ্বিক দুঃসময়ে কোথায়, কী করছেন !? তেনারা/তাহারা এখন কোথায় ? কিংবা তাহাদের মালয়েশিয়ান পরোটা, অস্ট্রেলিয়ান দুধ কিংবা স্পেনের মধু মুখে দিয়ে সকাল শুরু করা হাইব্রিড পুত্র-কন্যারা, পোষ্যরা, রাজনীতির কথিত উত্তরসূরিরা কে কোথায় কি’ই বা করছেন !?
অথচ ভোট আসলে চট্টগ্রামে মনোনয়নের অভিভাবক হয়ে যান। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তাঁরা সুপারিশ করে দলের মনোনয়ন বাগিয়ে দেন মাদক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে জনবিচ্ছিন্নদের!
তবে কী নেতৃত্ব এমন’ই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেল!?
এই সংকটেও ‘রাজনৈতিক আইসোলেশনে থাকা’ রাজনৈতিক অঙ্গনের এমন বটবৃক্ষসম অভিভাবকদের
অবস্থান নিয়ে চট্টগ্রাম শহরবাসীর মনে ওঠা নানা প্রশ্নের কি কোন উত্তর আছে রাজনীতি সচেতনদের কাছে, তা আমি ভেবেই পাই না !
আমাদের সেই নেতার, সেই সাবেক মন্ত্রীর চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বহুল আলোচিত আবাসিক হোটেল আছে ।
যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকতো, আমি উনার হোটেলটিকেই করোনা চিকিৎসার জন্য অধিগ্রহণ করে নিতাম। আর যদি আমি ওনার পুত্র, পুত্রতুল্য ঘনিষ্ঠ কিংবা সমর্থক হতাম, তবে উনার কাছে সবিনয়ে এই দাবিটাই তুলতাম ।
আমি তো উনাদের মত বিত্তশালীদের কিছুই হতে পারিনি । হতে চাইও নি। রাজনীতির আইডল, প্রিয় বঙ্গবন্ধু, প্রিয় শেখ সাহেবের যোগ্য কন্যা, আমাদের অভিভাবক শেখ হাসিনা এখনো রাষ্ট্র পরিচালনায় আছেন; পিতাকে খুনের মত জঘন্য কূপমন্ডুকদের এই দেশে,
এটাই তো আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া ।‌ অন্য কোন চাওয়া পাওয়া আর নেই। অন্য কারো কাছে কোন জমা-খরচও নেই।
তাই আমার দাবি কিংবা প্রত্যাশা না হয় মাঠেই মারা গেল।
কিন্তু আপনারা, প্রিয় বন্ধুরা, আপনারা কি বলেন ?
লোকে বলে, যেখানে বটবৃক্ষ নেই , সেখানে এরেন্ডা বৃক্ষও বটবৃক্ষের ছায়া ফেলে !
মহান আল্লাহ আমাদের এই ভগ্ন বিধ্বস্ত ম্রিয়মাণ নতজানু মানষ চৈতন্যের ‘অভিভাবক’ কিংবা ‘বটবৃক্ষ’কে এবং তাঁর অনুসারি অবিবেচক হাইব্রিড রাজনৈতিক পুত্রকন্যাদিগকে অন্তরে রহমত দান করুন। আমীন।

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সহ-সভাপতি,
বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন।

“পাঠকের কলাম” বিভাগের সকল সংবাদ, চিত্র পাঠকের একান্ত নিজস্ব মতামত, এই বিভাগে প্রকাশিত সকল সংবাদ পাঠক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। তাই এ বিভাগে প্রকাশিত কোন সংবাদের জন্য পাঠক.নিউজ কর্তৃপক্ষ কোনো ভাবেই দায়ী নয়।”



[ad_2]

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article