ঢাকা, ২৩ মার্চ- করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ পরীক্ষায় কিট উৎপাদনের বিষয় সামনে আসার পর সরকারের কোনো পর্যায় থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
কিট উৎপাদনের সর্বশেষ প্রস্তুতি বিষয়ে আজ সোমবার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার একথা বলেন জাফরুল্লাহ।
কিটের সংবাদ সামনে আসার পর সরকারের কারও সঙ্গে আপনাদের কোনো আলোচনা হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘না, সরকারের কোনো পর্যায় থেকে কেউ কোনো যোগাযোগ করেনি।’
বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস পরীক্ষার সহজ ও স্বল্পমূল্যের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
কিট উৎপাদনের কাঁচামাল ব্রিটেন থেকে আনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে জানিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘করোনা পরীক্ষার কিট তৈরির কাঁচামাল ব্রিটেন থেকে আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, আগামী বুধবারের মধ্যে তা চলে আসবে।’
‘আমাদের কাছে কিট তৈরির যে যন্ত্রপাতি আছে তা দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ হাজার কিট তৈরি করে দিতে পারব। তৈরি করেই আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেবো। তারা পরীক্ষা করে দেখবে ঠিকমতো কাজ করে কি না।’
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক বলেছিলেন, এ ধরনের কিট ভুল তথ্য দেয়-এমন প্রশ্নের উত্তরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘তিনি (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক) অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলেছেন। তার কথায় আমি অবাক হয়েছি। পরীক্ষা ছাড়া এমন কথা বলা মোটেই উচিত না।
‘গবেষকরা গবেষণা করে উদ্ভাবন করলেন, আর আপনি পরীক্ষা না করেই বলে দিলেন ঠিকমতো কাজ করে না? দেশীয় গবেষকদের ওপর এত অনাস্থা কেন? ডা. বিজন কুমার শীল যে সার্স ভাইরাস শনাক্তের কিট উদ্ভাবন করেছিলেন, চীন সেটা কিনে নিয়ে সফলভাবে প্রয়োগ করেছে। এসব তথ্য তো সবার জানা থাকার কথা।’
তবে কিট উৎপাদনে জরুরি ভিত্তিতে ২০ কোটি টাকা দরকার। সম্পদ থাকলেও নগদ টাকা নেই। এ জন্য ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানান জাফরুল্লাহ।
সরকারের কাছে কি চেয়েছেন? মাত্র ২০ কোটি টাকা তো সরকারই দিতে পারে-এমন প্রশ্নের উত্তরে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘কীভাবে চাইবে, কার কাছে চাইব? সরকারের কারও সঙ্গে তো আমাদের আলোচনা হয়নি। আলোচনা হলে তো বুঝিয়ে বলতে পারতাম, টাকার কথা বলতে পারতাম। সরকার সার্ক তহবিলে ১৫ লাখ ডলার দিচ্ছে। এই পরিমাণ টাকা আমাদের দিলে তো বড়ভাবে উৎপাদনে চলে যেতে পারি। আমাদের কিট দিয়ে তো সার্কের সব দেশই উপকৃত হতে পারবে।’