ঢাকা, ৩০ মার্চ – করোনাভাইরাসের এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে চীন।
সোমবার ঢাকায় চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে একটি খোলা চিঠিতে সম্মিলিতভাবে স্বাস্থ্য কমিউনিটি গড়ে তোলার জন্য সর্বদা একত্রে কাজ করার কথা বলা হয়। এবং আগের মতো সব ধরনের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক বন্ধন ও সম্পর্ক অব্যাহত থাকবেও বলে জানানো হয়।
চিঠিতে চীনে মহামারী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের জনগণ ও সরকারের জন্য যেভাবে সহানুভূতি ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে তার জন কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
এছাড়াও চীনের জনগণের জন্য বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন ধর্ম গোষ্ঠী, সুশীল সমাজসহ যারা বিভিন্নভাবে সহানুভূতি ও সমর্থন জানিয়েছে তার জন্যও কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘মহামারী করোনা ভাইরাস সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এখন ৪৯ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছে। এই মহামারী বিশ্বের সকল দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং মানব সমাজের জন্য বড় রকমের এক পরীক্ষা। কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস ১৯৯ টি দেশ অঞ্চলে ছড়ি পড়েছে। ২৯ মার্চ পযন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৩৩ হাজারের অধিক মানুষ। এই মুহুর্তে প্রত্যেকটি দেশ মহামারী মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
‘‘আত্মঘাতী এই মহামারীর বিরুদ্ধ লড়াইয়ে চীন কোনাভাবেই নিজেকে একা মনে করে না। প্রত্যেকটি দেশ পাশে আছে, মহামারী নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে। চীনে যখন আক্রান্ত হয় তখন বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশ ও ৪০টির বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠী চীনকে সমর্থন দিয়েছে এবং সহানুভূতি প্রকাশ করে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বন্ধুত্বের এই কথা চীনারা সর্বদা স্মরণ ও লালন করবে। বাংলাদেশের সহযোগিতা ও সমর্থন চীনের হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এ দেশের নাগরিকদের সমর্থন দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের জন্য দারুণ সহায়ক।’’
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘মহামারী যেহেতু সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, এমতাবস্থায় সম্মিলিত পদক্ষেপে এর মোকাবিলা করতে হবে। প্রত্যেকটি সম্প্রদায়কে ঐক্যব্ধ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মানবতাকে রক্ষা এগিয়ে আসতে হবে। এই ভয়াবহ যুদ্ধে আমাদেরকে জিততে হবে। এরই লক্ষ্যে চীন সব সময় জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সম্মিলিত উপায়ে কাজ করছে। আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা করছে দেশগুলোকে। চীন বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে ইরান, ইরাক, ইতালি, সার্বিয়া সহ বহু দেশে মহামারী মোকাবিলায় অবদান রাখছে।
তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সংকটময় মুহুর্তে চীনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
‘‘বাংলাদেশে ভাইরাস শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। চীন এই দেশের সরকার ও জনগণের জন্য সব সময় আছে সেটা নিশ্চিত করছে, পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই লড়াইয়ে থাকছে ও সহংতি জানাচ্ছে। এই রোগ মোকাবিলায় চীন থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার ৫০০ টেস্ট কিট, ১৫ হাজার সার্জিক্যাল এন৯ মাস্ক, ৩ লাখ মেডিকেল মাস্ক, ১০ হাজার গাউন, ১ হাজার থার্মমিটারসহ বিশেষজ্ঞ দল প্রেরণ করেছে। প্রয়োজনে এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’’
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, শুধু এই সংকটম মুহূর্তই নয়, চীন-বাংলাদেশের সব ধরনের সম্পর্ক পূর্বের মতোই সকল ক্ষেত্রে অব্যাহত থাকবে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫ বছরে এসে আমাদের এটা প্রতিশ্রুতি।
বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের আগের মতোই সকল ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ়করণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও জানানো হয়।
সুত্র : চ্যানেল আই অনলাইন