শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫

করোনার মহামারিতেও সীতাকুণ্ড হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি থেমে নেই

Must read

https://paathok.news/
সীতাকুণ্ডের বার আউলিয়া হাউওয়ে থানা।

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে গোটা দেশ যখন কাপঁছে, সেনা র‌্যাব ও পুলিশবাহিনী যখন মানবতায় সেবায় দেশব্যাপী ঝাঁপিয়ে পড়েছে ঠিক তখনও মহাসড়কে চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে সীতাকুণ্ডের বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ।

মহাসড়কে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশ দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। নিরীহ মানুষকে মারধর, গাড়ী আটকে রেখে জোর পূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও অসহায়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এদের নিত্যদিনের কাজ হয়ে দাড়িয়েছে।

গত সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত ১টার সময় বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল আওয়াল ও এস.আই সাইফুল এক নিরীহ রিক্সা চালক থেকে ১০ হাজার টাকা নেয় এবং পরে জোর পূর্বক ৭শত টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেন। ঐ স্ট্যাম্পও নিরীহ রিক্সা চালকের টাকায় কেনা।

https://paathok.news/
১০ হাজার টাকা নেয়ার পর এই অঙ্গিকারনামায় স্বাক্ষর নেয়ার পর রিকশা ছেড়ে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করে জানান, গত রবিবার দুপুরের দিকে ভাটিয়ারী মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল হাসপাতালে এক রোগী নিয়ে যাচ্ছিল রিক্সা চালক জয়নাল আবেদিন। এ সময় তার সামনে আচমকা এসে দাড়ায় হাইওয়ে পুলিশের এস.আই সাইফুল। এরপর রোগী নামিয়ে গাড়ীটি হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায় এবং অকথ্য ভাষায় চালককে গালমন্দ করেন। সোমবার সোর্সের মাধ্যমে ওসি ও এস.আই সাইফুল রিক্সা চালককে ডেকে নেন থানায় এবং ১০ হাজার টাকা দিলে গাড়ী ছেড়ে দিবে বলেন। সেই মোতাবেক রাতে টাকা নিয়ে থানায় আসেন গরীব রিক্সা চালক জয়নাল। প্রথমে টাকা নেন, এরপর বলেন এই স্ট্যাম্পগুরোতে স্বাক্ষর কর, যাতে জীবনে আর অটোরিক্সা না চালাছ। সর্বশেষ রাত ১টার সময় রিক্সা ছেড়ে দেন।

একইভাবে গত ১৭ মার্চ অপর এক রিক্সা চালকের গাড়ী গ্রাম থেকে ধরেন এস.আই সাইফুল। এরপর সোর্সের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে নিরীহ রিক্সা চালক অনেকের কাছে গিয়ে টাকা যোগাড় করতে না পেরে তিনদিন পর অনাহারে পরিবারকে ভরণ- পোষন দিতে না পারায় নিজেই আত্মহত্যা করে।

গত ২২ মার্চ হাইওয়ে পুলিশের এক এস. আই মহাসড়কের নড়ালিয়া পিএইচপি প্লাট গ্লাস ফ্যাক্টরীর ইউটার্ন এলাকায় এক দলিল লেখককে বিনা কারণে মারধর করলে স্থানীয়দের তোপের মুখে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে দলিল লেখক হেলাল সুস্থ্য হয়ে ২৪ মার্চ সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

আবু তাহের নামে এক রিক্সা চালক পাঠক ডট নিউজকে বলেন, ‘আমি ভাটিয়ারী গ্রামের একটি সড়কে রিক্সা চালানো অবস্থায় সাদা পোশাকে পুলিশ এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে আমাকে মারধর শুরু করে আমার গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়। পরে আমি অভাবের মধ্যে ৩ হাজার ৭শত টাকা দিয়ে গাড়ী নিয়ে আসি।

এভাবে বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ গত কয়েকদিনে রিক্সা জব্দ করে জসিম থেকে ১৩ হাজার, মিজান থেকে ১৩ হাজার ও খলিল থেকে ১৩ হাজার চাঁদা আদায় করে। টাকা না দিলে মারধর করার অসংখ্য নজির আছে বার হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে।

জানতে চাইলে অটোরিক্সা চালক জয়নাল কান্নাজনিত কন্ঠে জানান, ‘আমরা এমনিতে মহাসড়কে রিক্সা নিয়ে উঠি না, দেশে করোনা রোগের কারণে মহাসড়কে দূর পাল্লার গাড়ি কম থাকায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়িটি আটক করে এস.আই সাইফুল থানায় নিয়ে যায়। পরে সোর্সের মাধ্যমে খবর দিয়ে প্রথমে ওসি সাথে থাকা এক পুলিশ ১০হাজার টাকা নেয় এবং পরে ৭শত টাকা স্ট্যাম্পের টাকা নিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ছেড়ে দেয়।

এসব বিষয়ে জানতে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল আউয়াল কে(০১৭৩…১৯১২) ফোন করলে উনি ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে অভিযুক্ত এস.আই সাইফুল মারধর করা, টাকা নেওয়া ও ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। আপনি ওসি স্যারের সাথে কথা বলেন বলে লাইন কেটে দেন।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কুমিল্লা রিজিউন নজরুল ইসলাম বলেন,‘ আমি (সাংবাদিক)আপনার কাছ থেকে সকল অভিযোগগুলো শুনেছি,আপনি পারলে উনােদর কয়েকজনকে আমার কাছে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসতে বলেন।’ আমি আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

সুত্র : পাঠক ডট নিউজ

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article