বুধবার, এপ্রিল ২, ২০২৫

করোনায় আক্রান্ত মাওলানা সাদ, খুঁজছে পুলিশ!

Must read

নয়াদিল্লী, ০২ এপ্রিল- সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে জমায়েত করায় তাবলীগ জামাতের জ্যেষ্ঠ মাওলানা সাদ কান্ধলভির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। এফআইআর দায়েরের পর থেকেই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ। যদিও এখনো পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি। এরমধ্যেই মাওলানা সাদ কান্ধলভি করোনায় আক্রান্ত হওয়া নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। ভারতের দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। এরই মধ্যে দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলীগ জামাত-এর ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সব মিলিয়ে প্রায় ৯,০০০ মানুষের জমায়েতের বিষয়টি সামনে আসে। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া ২১ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মৃত্যু হয়েছে দু’জনের।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মনে করা হচ্ছে অন্তত ৪০০ জন করোনা আক্রান্তের যোগসূত্র রয়েছে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে নিজামুদ্দিন মারকাজের প্রধান ৫৬ বছর বয়সী মাওলানা সাদ কান্ধলভির খোঁজ নেই। গত ২৮ মার্চ থেকে তাকে খুঁজছে পুলিশ। সূত্রের বরাতে এনডিটিভি বলছে, মাওলানা সাদও করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

দিল্লি পুলিশের বেশ কয়েকটি দল উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরেও অভিযান চালিয়েছে। তল্লাশি চলছে রাজধানী দিল্লিতেও। ১৪টি হাসপাতালের সঙ্গেও পুলিশ যোগাযোগ করেছে।

মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ, তিনি নিজামুদ্দিন মারকাজে মানুষকে জমায়েত হতে উৎসাহ দিয়েছেন। করোনা সংক্রমণ রুখতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও বড় জমায়েতে নিষেধাজ্ঞার সময় তিনি এই কাজ করেছেন। এমনকি, তিনি বাড়ি খালি করে দেওয়ার দু’টি পুলিশি বিজ্ঞপ্তিও অগ্রাহ্য করেন।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, একশো বছরের বেশি বয়স নিজামউদ্দিনের ওই বাড়িটির। নিজামউদ্দিনের ওই ঘটনায় মওলানা সাদ ছাড়াও, মারকাজের আরও ছয় জনকে খুঁজছে দিল্লি পুলিশ।

এরমধ্যে বুধবার (১ এপ্রিল) মাওলানা সাদের নামে দু’টি অডিও প্রকাশ্যে আসে। মারকাজ ইউটিউব চ্যানেলে প্রথম অডিওয় বলা হয়েছে, মসজিদই মৃত্যুর জন্য সেরা স্থান।

ইন্ডিয়া টিভির খবরে বলা হয়েছে, ওই অডিও টেপটি গত ১৮ মার্চ ধারণ করা। এতে মাওলানা সাদকে বলতে শোনা যায়, মসজিদে জড়ো হলে রোগ পয়দা হবে এই চিন্তা সম্পূর্ণ বাতিল চিন্তা। আপনার যদি এই চিন্তা আসে যে মসজিদে আসার কারণে মানুষ মারা যাবে তাহলে মৃত্যুর জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতেই পারে না।

তবে মহামারি ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর আত্মগোপনে থাকা মাওলানা সাদের দ্বিতীয় অডিওতে তার সূর সম্পূর্ণ ভিন্ন। এতে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে, পৃথিবীতে যা হচ্ছে তা মানুষের অপরাধের ফল। আমাদের ঘরে থাকা উচিত। এটাই সৃষ্টিকর্তার ক্রোধকে শান্ত করতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মানুন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সহায়তা করুন। কোয়ারেন্টাইনে থাকুন, সে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন। এটা ইসলাম বা শরিয়ত বিরোধী নয়।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মাওলানা সাদ নিজেই করোনায় আক্রান্ত। দ্বিতীয় অডিওতেও তার ইঙ্গিত আছে। এর আগে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে জমায়েতের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর অভিযোগে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ নেতা মাওলানা সাদ কান্ধলভি ও নিজামুদ্দিন মারকাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে দিল্লি পুলিশ।

সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে তাবলীগ জামাতের বড় জমায়েত হয়েছিল। সেখানে বহু বিদেশি মেহমান ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখান থেকে করোনা সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। নিজামুদ্দিনের ওই মসজিদে যোগ দেয়ার পর মোট সাত জন মারা গেছেন। এরই মধ্যে মসজিদটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশ আগেই নোটিশ দিয়েছিল সাদকে। তবে গত ২৮ মার্চ থেকেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টিভির খবরে বলা হয়, ওই জামাত থেকে ফিরে দিল্লিতে ২৪ জন, তেলেঙ্গানায় ৬ জন, আন্দামানে ১০ জন, কাশ্মীরে একজন ও তামিলনাড়ুতে ৫০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ওই জামাতে ৮২৪ জন বিদেশি ছিলেন। ইতোমধ্যে পুলিশ সেই তথ্য সংগ্রহ করেছে।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ওই আবেদনে উল্লেখ করে যে, ওই জামাতে উপস্থিতদের মধ্যে ৯৪ জন ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার, ১৩ জন কিরগিস্তানের, ৯ জন বাংলাদেশের, ৮ জন মালয়েশিয়ার, ৭ জন আলজেরিয়ার। এ ছাড়া তিউনিসিয়া, বেলজিয়াম ও ইতালি থেকে একজন করে এসেছিলেন। বাকিরা ছিলেন ভারতীয়। ওই জামাতে যারা অংশ নিয়েছিলেন তারা শহরের ১৬টি মসজিদে ছিলেন।

এদিকে গত ৩৬ ঘণ্টায় ওই মার্কাজ থেকে ২ হাজার ৩৬১ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে ৬১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। এখান থেকে বিভিন্ন রাজ্যে গেছেন মানুষজন। ফলে সব রাজ্যকেই কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে ভারত থেকে তাবলীগ জামাতের সাদপন্থী ১১ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন কাকরাইলে ও বাকিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আছেন। তাদের সবাইকে বিমানবন্দরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

পুলিশ জানায়, সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া বিদেশফেরত তাবলীগ সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ ও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ থেকে গত ফেব্রুয়ারিতে ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিক তাবলীগে ভারতে যান। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, নিজাম উদ্দিন মারকাজে অবস্থান নেয়া অনেকেই করোনায় আক্রান্ত। মাওলানা সাদপন্থীদের দাবি, তারা লকডাউনের আগেই ফিরে আসেন। এর আগে থেকেই চার মাস সময়ের জন্য আরও ৩৩ জন সদস্য অবস্থান করছিলেন দিল্লির নিজাম উদ্দিন মারকাজে। সাংগঠনিক কাজ শেষ না হওয়ায় দেশে ফেরেননি তারা।

কাকরাইলে থাকা একজন জানান, যারা নিজামউদ্দিন মারকাজ থেকে এসে কোয়ারেন্টাইনে গেছেন; সবাই সুস্থ হয়ে গেছেন। আমাদের মধ্যে কেউই আক্রান্ত হননি।

এদিকে ভারত থেকে দেশে ফেরা একজন দাবি করেন, সপরিবারে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তারা। স্থানীয়রাও জানান, বিদেশ ফেরতদের ব্যাপারে তথ্য দিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

পুলিশের এক সদস্য জানান, এ মুহূর্তে কাকরাইল মসজিদে ১৫৭ জন বিদেশি রয়েছেন। এছাড়াও সারা দেশে ৯৭ জন রয়েছেন। বাংলাদেশে থাকা তাবলীগের দুই পক্ষেরই মূল অবস্থান কাকরাইলে। আপাতত সাদপন্থীদের তালিকা হলেও অন্য পক্ষেরও বিদেশ ভ্রমণকারীদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের কথা জানায় পুলিশ।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article