লখনউ, ১৮ মার্চ – করোনা আতঙ্কে বড় জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র। বেশ কিছু শহরে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। তাতে কী! ধর্ম তো আলাদা। তাই করোনাকে পরোয়া না করেই রামনবমীতে অযোধ্যায় (Ayodhya) জমায়েত হতে চলেছেন লক্ষাধিক মানুষ। যা নিয়ে আশঙ্কায় চিকিৎসকরা। অযোধ্যার জেলা প্রশাসনিক আধিকারিকরাও রীতিমতো উদ্বিগ্ন।
করোনার জেরে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ধর্মস্থান বন্ধ করা হয়েছে। তালিকায় আছে সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরের মতো জায়গা। বড় জমায়েত এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের বিক্ষোভ সমাবেশগুলি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকী, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের কেউই হোলিতে জমায়েত করেননি। অথচ, যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ সরকার রামনবমীর (Rama Navami) মেলাতে কোনওরকম নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। উলটে প্রশাসনের তরফে আয়োজকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। অযোধ্যার জেলা মেডিক্যাল অফিসার মেলার বিরোধিতা করায় তাঁকে উপরমহল থেকে ভর্ৎসনা করা হয় বলেও সূত্রের খবর।
আসলে, এবারের রামনবমীর মেলার আলাদা গুরুত্ব আছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার পর এই প্রথম মেলার আয়োজন হচ্ছে। আগামী ২৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে মেলা। গোটা দেশ থেকে লক্ষাধিক রামভক্ত মেলায় উপস্থিত হবেন। ইতিমধ্যেই সাধুসন্তদের একটা বড় অংশ অযোধ্যার উদ্দেশ্যে হাঁটা দিয়েছেন। কেউ কেউ আস্তানাও গেড়ে ফেলেছেন রাম জন্মভূমিতে।
তাছাড়া এর সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে ভোট রাজনীতিও। উত্তরপ্রদেশ রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই রামচন্দ্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। তাই এতদিন পরে যখন রামজন্মভূমিতে মন্দির নির্মাণের অনুমতি মিলল, তখন মেলা বন্ধ করার ঝুঁকিটা নিতে চাইছেন না যোগী আদিত্যনাথ। অযোধ্যায় বছর দুইয়ের মধ্যেই নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে মেলা বন্ধ করলে হিন্দুদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই করোনা ছড়ানোর বড়সড় ঝুঁকি থাকছে জেনেও মেলা বন্ধের নির্দেশ দিচ্ছে না প্রশাসন।