বুধবার, এপ্রিল ২, ২০২৫

করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ইরানে মারা যাবে ৩৫ লাখ মানুষ

Must read

তেহরান, ১৮ মার্চ – গত কয়েক সপ্তাহে ইরানে ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে করোনাভাইরাস। এ মহামারিতে সেখানে ইতোমধ্যেই প্রায় এক হাজার মানুষ মারা গেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজারের বেশি। দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশটিতে ৩৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এক বিশেষজ্ঞ।

মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সাংবাদিক ও চিকিৎসক আফরুজ এসলামি তেহরানের শরীফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে এ আশঙ্কার কথা জানান।

করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণ এখনই সহযোগিতা করা শুরু করলে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ আক্রান্ত ও ১২ হাজার প্রাণহানিতেই এই মহামারি শেষ হবে। যদি মাঝারি পর্যায়ে সহযোগিতা করে তাহলে তিন লাখ আক্রান্ত ও ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে।’

‘কিন্তু, মানুষজন যদি নির্দেশনা না মানে তাহলে ইরানে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে, আর এতে প্রাণ হারাবে ৩৫ লাখ মানুষ।’

যদিও ঠিক কোন পদ্ধতিতে ও কবে এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে তার বিস্তারিত জানাননি আফরুজ এসলামি। তবে ইরানের সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলে এ ধরনের তথ্য প্রচার দেশটিতে করোনা সংকটের ভয়াবহতার চিত্রই তুলে ধরছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৭৮ জন। মারা গেছেন আরও ১৩৫ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১৬৯ জন, আর মোট মৃতের সংখ্যা ৯৮৮।

এরই মধ্যে দেশটির ১২ জন শীর্ষ নেতা, সরকারের বর্তমান বা সাবেক কর্মকর্তা করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এ ধরনের আরও অন্তত ১৩ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বা আক্রান্তদের সংস্পর্শে যাওয়ায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান থেকে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে এ পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ১৬৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস। এতে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৯৫৩ জনের। এছাড়া, প্রায় ৮১ হাজার ৬৯১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article