বুধবার, এপ্রিল ২, ২০২৫

“পিপিই নাই, প্রাইভেট চিকিৎসা নাই”

Must read

https://paathok.news/
.

জন্ম মৃত্যুর মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। মহান আল্লাহর উছিলায় এই পৃথিবীতে মানুষ জন্মমৃত্যু ও সুস্থতার জন্য যাদের কাছে যান বা যাদের দ্বারা মানুষের রোগমুক্তি ঘটে তারা হলেন আমাদের ডাক্তারগণ।।

ডাক্তার সুস্থ থাকলেই রোগী সুস্থ থাকবে। তারাই যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে রোগীদের কে সুস্থ করে তুলবে? রোগীর সুস্থতার জন্য, সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করণের জন্য ডাক্তার, সহকারী ও নার্সদের গ্রেড অনুসারে পিপিই খুবই প্রয়োজন ।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় সকল প্রাইভেট সেক্টরের ডাক্তারগণ, বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক/হাসপাতালে নিরাপত্তা তথা পিপিই না থাকার কারণে রোগী দেখছেন না , লিখে দিয়েছেন রোগী দেখা হয় না । ডাক্তাররা নিজেদের নিরাপত্তা সংকটের কারণে, পিপিই না থাকার কারণে এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহনে হয়তো বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু শুধু পিপিই এর জন্য যদি ডাক্তারগণ রোগী না দেখেন, রোগীকে সুস্থ না করেন তবে চট্টগ্রাম বিশাল এক মহামারীর সম্মুখীন হবে ।

এটাও ভেবে দেখা আবশ্যক যে একজন ডাক্তারের নিকট বা প্রাইভেট হাসপাতাল/ ক্লিনিকগুলোতে শুধু করোনা রোগীই চিকিৎসা সেবা নিতে যায় না। আর এমন নয় যে করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের অন্য রোগবালাই উধাও হয়ে গেছে । করোনা ছাড়া বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষগুলো কোথায় যাবে? তারাও কি এই পিপিই এর কারণে তাদের চিকিৎসা পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?

চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল/ক্লিনিক এসোসিয়েশান ও প্রাইভেট ডাক্তারগণের সদিচ্ছা থাকলে তারা মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনে নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশির তথা সাসপেক্টটেড করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট আলাদা ইউনিট করে অন্যান্য জটিল রোগীদের নির্বিঘ্নে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারেন ।

তাছাড়া এই সংকট থেকে উত্তোরণের পথ তো আমাদেরই বের করতে হবে। পিপিই নাই বলে তো আর বসে থাকা যাবে না । এই সাময়িক দুঃসময় থেকে উত্তোরণের জন্য আমি মনে করি বিএমএ, স্বাচিপ, রেড ক্রিসেন্ট, লায়নস ক্লাব অব ইন্টারন্যাশনাল , বিভিন্ন মানবিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান যারা বিভিন্ন সময় দুর্যোগকালীন সময়ে, সংকটে চট্টগ্রামের মানুষের জন্য মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, এগিয়ে এসেছেন তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। আমার জানামতে চট্টগ্রামের স্মার্ট গ্রুপ, ক্লিপ্টন গার্মেন্টস সহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা পিপিই তৈরি করছে ।

বিএমএ, স্বাচিপ, লায়নস ক্লাব অব ইন্টারন্যাশনাল, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি আরো যারা মানবিক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান আছে তারা প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করে ফান্ড গঠন করতে পারেন এবং এক্ষেত্রে ফান্ড কালেকশানের জন্য বিত্তবানদের আহবান করতে পারেন। এইভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পিপিই তৈরি করে ডাক্তারদের হাতে তুলে দেওয়া হোক ।

আমরা তথা চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ও ক্লিনিকে সব ধরনের সার্ভিস চার্জ দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করি, প্রয়োজনে ডাক্তার বা হাসপাতাল/ ক্লিনিক কতৃপক্ষ রোগীদের থেকে পিপিই এর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্জ কর্তন করতে পারেন এবং সেই টাকা পিপিই তৈরির জন্য যে ফাণ্ড হবে সেখানে দিয়ে দিবেন এবং পিপিই সংগ্রহ করবেন।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে পিপিইগুলো লোকালি তৈরি করে বা ইম্পোট করে চট্টগ্রামের দূঃস্থ ও অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএমএ, স্বাচিপ, লায়নস ক্লাব অব ইন্টারন্যাশনাল , রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সহ বৃহত্তর মানবিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি। এই ফান্ড গঠনে নগরবাসীর সহায়তা প্রয়োজন হলে আমি বিশ্বাস করি এই ক্রান্তিকালে বীর চট্টলাবাসী অবশ্যই স্বস্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসবেন এবং এই সংকট দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

লেখক:-
অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী,
সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক-চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।
আইন বিষয়ক সম্পাদক- চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ।

 

 

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article