ভারতে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঘটনা বেড়ে চলেছে। এদিন পর্যন্ত ১৭৪ জনের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।
বৃহষ্পতিবার আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারতে ২২ মার্চ থেকে এক সপ্তাহের জন্য কোনও আন্তর্জাতিক বিমান নামতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি পর্যালোচনায় উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক করেছেন। রাতেই প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দেবার কথা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ভারতের এক কেন্দ্রীয মন্ত্রী নিজেকে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে রেখেছেন।
তিনি কেরলে একুিট প্রতিষ্ঠানে গিযেছিলেন। তিনি হলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলিধরন। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা সুরেশ প্রভুও নিজেকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছেন।
সব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় ৬৫ বছরের উর্দ্ধের সমস্ত বয়স্ক ব্যাক্তিদের বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। একইভাবে ১০ বছরের নীচের শিশুদেরও বাড়িতেই থাকতে বলা হয়েছে। বেসরকারি ক্ষেত্রে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালুর কথাও বলা হয়েছে নয়া নির্দেশিকায়।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, দেশে গণ সংক্রমণের কোনও প্রমাণ মেলেনি। বৃহষ্পতিবার পাঞ্জাব থেকে যে ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, তিনি দিন পনেরো আগে জার্মানি থেকে ইতালি হয়ে ভারতে ফিরে এসেছিলেন। তার শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। বৃদ্ধ পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরের যে গ্রামের বাসিন্দা সেই গ্রামটিকে সিল করে দেওয়া হয়েছে। যে চিকিৎসক বৃদ্ধের চিকিৎসা করেছেন তাকেও কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইউজিসির নির্দেশে ভারতের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সব ধরণের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সিবিএসই ও আইএসসি-র সব পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিযেছেন, দিল্লিতে সব রেস্টুরেন্টে বসে খাওযা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। তবে রেস্টুরেন্ট খাবার নিয়ে বাড়িতে বসে খাওয়া যাবে।
এদিকে পাঞ্জাব সরকার ২০ মার্চ থেকে সব গণপরিবহন বন্ধ করার ঘোষনা করেছে।