নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আন্দোলনের সময় এসে গেছে। মরতেই যখন হবে তখন বীরের মতো মরবো। মরতে যদি হয় কথা বলে মরবো।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে বিদ্যুৎ, পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির উদ্দেশে মান্না বলেন, একথা সবাই জানে ওরা আপনাদের ঘাড়ে চেপে বসে আছে। ওদের ঘাড়ে করে সমুদ্র পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে সমুদ্রে যদি ফেলে দিতে পারেন তাহলেই তারা ঘাড় থেকে নামবে, তাছাড়া নামবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হচ্ছে বিএনপি। সেই দলের নেত্রী দুই বছর ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন। এখনো রাজপথ উত্তপ্ত করতে পারেনি তারা। মিছিল করতে যাবেন, সভা-সমাবেশ করতে যাবেন পুলিশ করতে দেবে না। ঘরের ভেতরে আলোচনা সভা করতে গেলেও পুলিশের অনুমতি নিতে হয়। এ মানববন্ধনে কয়েক জন বিএনপি নেতা আসার কথা ছিল শুনলাম, তারা ঘরের ভেতরে নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিং করছিল, পুলিশ গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। অতএব সময় এসে গেছে মরতেই যখন হবে তখন বীরের মতো মরবো। মরতে যদি হয় কথা বলে মরবো। যদি কথা বলা বন্ধ করে দেয় তাহলে সারা দেশজুড়ে কথা বলি। যেন আমাদের কথা কোনভাবেই বন্ধ করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, আজ আমাদের কোনো দলের দিকে তাকাবার সময় নাই। নেতার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় নেই। আজ তাকান মিশরের দিকে, ভেনেজুয়েলার দিকে, তাকান সুদানের দিকে। কোনো দল ছিল না, নেতা ছিল না, মানুষ নিজে নিজে নিজের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল।
বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে নিগৃহীত মন্তব্য করে মান্না বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ হচ্ছে। ২০১৮ সালের তুলনায় গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে দ্বিগুণ ধর্ষণের শিকার হয়েছে আমার দেশের নারীরা। এই নারীরা, নারী দিবসে যদি তাদের অধিকার নিয়ে মিছিল করে তারপরও পুলিশ তাদের মিছিল করতে দেবে না। তবে এই পুলিশই কোনো বোনের ভাই, কোনো মায়ের-বাবার সন্তান।
বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি এখন একটি বিরাট দল। তাদের জনসমর্থন বিস্ময়কর। বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে অনুরোধ করি আপনাদের পাশের বাড়ির যারা আছে তাদের বলেন। আপনারা মনে করছেন এই সরকার নামবে না। কিন্তু এই সরকার এত শক্তিশালী নয়। আপনারা আন্দোলন না করেন, আমরা আন্দোলন করলে সেই আন্দোলনে শরিক হন। তাহলে দেখবেন আন্দোলন কিভাবে ত্বরান্বিত হয়।