বৃহত্তর যশোরের ব্যস্ততম বাঘারপাড়া-কালীগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে সংস্কার কাজ। কিন্তু সড়কের উপরে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরানো নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। খুঁটি সরাতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও এখনও পর্যন্ত নেওয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। ফলে খুঁটি রেখেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম.এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করেছে। এতে জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
সড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীদেরকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে অন্ধকারে চলা অচেনা পথচারীরা।
যশোর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, এক সময়ের ১২ ফিটের সড়কটি এখন ১৮ ফিটে প্রশস্ত হবে। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা সদর থেকে শেষ সীমানা জহুরপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাঘারপাড়া বাজার মাদরাসা মোড় থেকে খাজুরা বাজার হয়ে জহুরপুর ইটভাটা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের মাঝে ৬টি বিদ্যুতের খুঁটি রেখে প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে জহুরপুর থেকে খাজুরা বাজার ব্রীজঘাট পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার ও খাজুরা তৈলপাম্প মোড় হতে দূর্গাহপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কে পিচের প্রথম ধাপে ৫০ মিলি’র (বাইন্ডার) ফোর্সের কাজ শেষ হয়েছে। এ অংশের যাদবপুর ও মাঝিয়ালী এলাকায় সড়কের মাঝে ৩টি খুঁটি রেখেই পিচ করা হয়েছে। বাঘারপাড়া, রায়পুর, পাইকপাড়া ও শালবরাট এলাকায় রয়েছে আরো ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি। দ্বিতীয় ধাপে ৪০ মিলি’র (ওয়ারিং ফোর্স) পিচের কাজ শেষ হলে নির্ধারিত প্রায় ৩ ইঞ্চি পুরুত্ব হবে সড়কটি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
এলাকাবাসী জানায়, যশোর ও ঝিনাইদহ জেলার যোগাযোগের সংযোগ সড়ক এটি। দৈনন্দিন কাজে দু’জেলার হাজারো মানুষের এ সড়ক হয়েই বাঘারপাড়া ও কালীগঞ্জ উপজেলা সদর এবং খাজুরা বাজারে আসতে হয়। তবে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে দেশের উত্তরাঞ্চলের সব যানবাহন এ পথে নড়াইল-কালনা হয়ে খুব সহজে দ্রুত সময়ে ঢাকায় পৌছাবে। নতুন পিচ হওয়ার পরে সড়কে যানবাহন গুলোর গতি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এর মধ্যে সড়কের মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় একটি যান আরেকটি অতিক্রম করার সময় জায়গা দিতে পারছে না। একটু বেখেয়াল হলেই বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটবে। যে কারণে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক, যাত্রী, পথচারী ও এলাকাবাসীরা শঙ্কায় রয়েছে।
সড়কে চলাচলকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় যাতায়াতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। যানবাহনের সাথে বিদ্যুতের খুঁটির ধাক্কা লেগে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা থাকলেও কর্তৃপক্ষ যেন দুর্ঘটনা ঘটার জন্য খুঁটি গুলো রেখে দিল।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার রাজীব সরকারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, খুঁটি সরানোর জন্য সওজ ও পল্লী বিদ্যুতকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এটি সরানো তাদের কাজ নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি (ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার) বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে খুঁটি না সরিয়েই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে।
সড়ক মেরামত কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, যেহেতু পিচ হয়ে গেছে সেহেতু খুঁটি গুলো এখন সরানো সম্ভব না। এর একমাত্র সামাধান হল এটি কেটে ফেলা।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বাঘারপাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আতিকুজ্জামান চৌধুরী জানান, খুঁটি সরানোর জন্য তাদের কাছে কেউ কোন চিঠি পাঠায়নি।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত তারা খুঁটিগুলো সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে।
এদিকে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সিনিয়র জেনারেল প্রকৌশলী আবদুল মান্নানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সওজ খুঁটি সরানোর ব্যাপারে জানিয়েছে।
সড়কে পিচ হয়ে গেছে এখনো এটি সরানো হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অজ্ঞাত এক জটিলতার কথা বলেন। তবে খুঁটি সরানোর জন্য ব্যয়ের জটিলতার বিষয়ে বলতেই তিনি (আবদুল মান্নান) এ প্রতিবেদকে বলেন, এটি কেন আপনাকে বলতে যাবো।