নয়াদিল্লী, ২৩ মার্চ – ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা অব্যহত। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার সন্ধ্যায় পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুসারে দেশজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৩৩। এর মধ্যে ৩৩ জন বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।
করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের মতো পদক্ষেপ করছে একের পর এক রাজ্য। এই মুহূর্তে দেশের ১৯ রাজ্যে জারি লকডাউন। তার পরেও সাধারাণ মানুষের মধ্যে লকডাউন ভাঙার প্রবণতা দেখা দেওয়ায় পঞ্জাবের পর মহারাষ্ট্রেও জারি হয়েছে কারফিউ। এখনও পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
সোমবারই লকডাউন না মানলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নিতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, লকডাউন নিয়ে প্রশাসনের যাবতীয় নির্দেশিকা যে মানা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে হবে সব রাজ্য সরকারকে।
যদিও এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে শুধুমাত্র সমাজকে লকডাউন করাই যথেষ্ট কি-না, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র (WHO) কার্যনির্বাহী ডিরেক্টর মাইক রিয়ানের মতে, লকডাউনের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের উপরে আপাতত রাশ টানা সম্ভব হলেও ভবিষ্যতে তা ফের ফিরে আসতে পারে। যে কারণে এই মারণ ভাইরাসকে চিরতরে নির্মূল করতে চিন- দক্ষিণ কোরিয়ার মডেল অনুসরণে করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, লকডাউনের পাশাপাশি শারীরিকভাবে দুর্বল এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিহ্নিত করে তাঁদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা করার উপরে এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সেইসঙ্গে ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন তাঁদেরও আইসোলেট করতে হবে। তিনি এ-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন, লকডাউনের পাশাপাশি প্রত্যেক সম্ভাব্য রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। মারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে চিন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুর এই পদ্ধতি মেনে চলেছে এবং তাতে সাফল্য মিলিছে। এই মডেল মেনে চললে অন্যান্য দেশগুলিতে স্থায়ীভাবে করোনা সংক্রমণ রুখে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।