বুধবার, এপ্রিল ২, ২০২৫

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলে কি আমরা খুশি হই?

Must read

ঢাকা, ২৯ মার্চ- দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশকারীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘অনেকে বলছে, সংখ্যা এত কম কেন। কেন, সংখ্যা বেশি হলে কি আমরা খুশি হই? আমরা কি চাই বেশি বেশি লোক সংক্রমিত হোক? বেশি বেশি লোক মৃত্যুবরণ করুক? আমরা তো চাই আমাদের দেশের লোক সংক্রমিত না হোক। আমাদের দেশের লোক মৃত্যুবরণ না করুক। এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়।’

আজ রোববার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সেখানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। এর সঙ্গে বিশ্বের ১০টি দেশ ছিল। জাতিসংঘ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রীও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয় প্রতিদিন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভালো আছি। বাংলাদেশ পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় এখন অনেক ভালো আছে। আমরা অনেক আগে প্রস্তুতি নিয়েছি বলেই আমরা ভালো আছি। ইউরোপ-আমেরিকার অবস্থা কেমন, সেটা আপনারা জানেন।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘অনেকে বলছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ যদি আগে থেকে করত, তাহলে পরিস্থিতি এমন হতো না। দেশে যত বিদেশি এসেছেন, তাঁদের দেশে আসা ঠেকানোর দায়িত্ব কি আমাদের? আমরা কি প্লেন আটকাতে পারব? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসা দিতে পারে। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দায়ী। তাঁদের ইউরোপ-আমেরিকা থেকে অর্ডার বন্ধ হয়ে গেছে। এর দায় কি আমাদের?’

মন্ত্রী বলেন, ‘জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করি। তিনটি কমিটি করা হয়। একটি জাতীয় পর্যায়ে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কমিটি হয়। আমরা কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করি। দুই মাস আগে তো কেউ প্রস্তুতির কথা বলেননি।’

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) বিষয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘এ পর্যন্ত তিন লাখ পিপিই বিতরণ করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। এপ্রিলের মধ্যে পাঁচ লাখ আসবে। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হাজার হাতে পাচ্ছি। এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করার দরকার নেই।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘কিটের বিষয়ে অনেক কথা কানে এসেছে। আমাদের এখন হাতে ৪৫ হাজার কিট আছে। আরও অর্ডার কোয়ানটিটি আছে ৮৫ হাজার।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এখন আড়াই শ ভেন্টিলেটর আছে। আরও তিন শ স্থাপনের প্রক্রিয়ায় আছে। বিভ্রান্তিকর কোনো নিউজ পরিবেশন করা উচিত নয়। এখন আমাদের কাজ সবাই মিলে কাজ করা। এখন যেটা আমরা করছি। আমাদের সঙ্গে সারা দেশের মানুষ আছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। সভা-সমাবেশ করা উচিত নয়। দরজা-জানালা ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

আজ ভিডিও কনফারেন্সে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ছুটি শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করব। আপনারাও করবেন, দেশবাসী করবেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও করবেন। আমাদের এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি দেখব। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে পরিস্থিতি জানাব। তিনি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আকিজ গ্রুপের নির্মাণাধীন ভবন নির্মাণ নিয়ে গতকাল শনিবার বাধা সৃষ্টির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশবাসী একত্রে কাজ করছে। এতে আমরা খুব আনন্দিত। এখন আকিজ গ্রুপ যদি একটি ভবন তৈরি করতে চায়, তাতে যদি সমস্যা না হয়, দেশবাসীর জন্য এলাকার জন্য ভালো হয়। প্রয়োজন না হলে আমরা সেটা ব্যবহার করব না। সবাইকে সহনশীল হতে হবে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিন বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তো বড় মন্ত্রণালয়। এখানে অনেক কর্মকর্তা আছেন। চিকিৎসকেরা আসা-যাওয়া করেন। এর মধ্যে কেউ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। তিনি কোয়ারেন্টিনে আছেন কি না, প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো কাজ করছি। টেস্ট করিয়েছি, আমি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হইনি। আমি কোয়ারেন্টিনে আছি তা বলব না, অন্যরা যেভাবে আছেন, সেভাবে আছি।’

সুত্র: প্রথম আলো

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article