[ad_1]
নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে টালমাটাল গোটা বিশ্ব। এখন পর্যন্ত ১৩ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার। একে তো এ রোগের চিকিৎসা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি তার ওপর চলছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ভয়ানক সঙ্কট। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়েছেন চিকিৎসকরা। চীন, ইতালিসহ একাধিক দেশে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
বিশ্ববাসীর এই ক্রান্তিলগ্নে জীবনের ঝুঁকি জেনেও বহু মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ছেন মানবতার সেবায়। এ তালিকায় যেমন আছেন সাধারণ মানুষ তেমন আছেন সেলিব্রেটিরাও। এর মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে আয়্যাল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাডকারের নাম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন স্পোর্টিং লিসবন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফ্রেদেরিকো ভারান্দাস। সর্বশেষ যুক্ত হলো মিস ইংল্যান্ড ভাষা মুখার্জির নাম।
স্পোর্টিং লিসবনের প্রেসিডেন্ট ফ্রেদেরিকো ভারান্দাস মার্চের মাঝামাঝিতেই করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ডাক্তারি পেশায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পর্তুগালের যতো দিন লাগে তিনি চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে রাজি আছেন।
ভারান্দাস একজন স্পোর্টস মেডিসিন, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন স্পেশালিস্ট। ৪০ বছর বয়সী ভারান্দাস ২০১৮ সাল থেকে স্পোটিং লিসবনের প্রেসিডেন্ট। তিনি নিজেই তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
গতকাল সোমবার গার্ডিয়ানসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী তাওসিচ লিও ভারাডকার ডাক্তারি পেশায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই করোনাভাইরাস সঙ্কট যতোদিন থাকছে ততোদিন তিনি সপ্তাহে এক দিন চিকিৎসা দেবেন।
ভারাডকার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনীতিতে যোগ দেয়ার আগে সাত বছর ডাক্তারি পেশায় ছিলেন। মেডিক্যাল রেজিস্টার থেকে তার নাম কাটা যায় ২০১৩ সালে। গত মার্চেই তিনি আবার নিবন্ধন করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা নির্বাহী হিসেবে সপ্তাহে একদিন করে কাজও করছেন তিনি।
আয়ারল্যান্ডের হেলথ অ্যান্ড সেফটি এক্সেকিউটিভ গত মাসে একটি ঘোষণা দেয়। যারা পেশাদার স্বাস্থ্যসেবা দানকারী কিন্তু এই মুহূর্তে পেশায় নেই তাদের এই সঙ্কটকালে কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানায় এ সংস্থা। এরপর মাত্র তিন দিনের মধ্যে ৫০ হাজার মানুষ আবেদন করেছে বলে জানা যায়।
এদিকে ২০১৯ সালের মিস ইংল্যান্ড এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক দাতব্য কাজ রেখে করোনাভাইরাস মহামারীতে ইল্যান্ডের জন্য কাজ করতে ফিরে এসেছেন। তিনি ডাক্তার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। মিস ইংল্যান্ড ভাষা মুখার্জি (২৪) জুনিয়র ডাক্তার হিসেবে কাজ করা অবস্থাতেই ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এরপর আর পেশায় ফিরেননি। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা থেকে দূত হওয়ার ডাক আসার কারণে তার আর ডাক্তারি করা হয়ে ওঠেনি। এবার তিনি আবার গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে রোগী দেখতে শুরু করবেন।
মার্চের শুরুর দিকে তিনি চার সপ্তাহ ভারতে ছিলেন একটি দাতব্য সংস্থার দূত হিসেবে। সেখানে বিভিন্ন স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনা বৃদ্ধির প্রচারণা ও অনুদান দিয়েছেন ভাষা।
এর মধ্যে ব্রিটেনে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। বোস্টনে পিলগ্রিম হাসপাতালে বেশ সময় ধরে কাজ করেছিলেন ভাষা। সেখানকার সহকর্মীরাই তাকে নিয়মিত হালনাগাদ দিচ্ছিলেন। পরে তিনি সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজে ফেরার অনুমোদন নিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন, ব্লিচার রিপোর্ট, আইরিশ টাইমস
আর/০৮:১৪/৭ এপ্রিল
[ad_2]