[ad_1]
রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:
সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও করোনা ভাইরাসের আক্রমন মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলার সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে রাঙামাটিতে সর্বমোট দেড়শো বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তারমধ্যে রাঙামাটি শহরেই রাখা হয়েছে আইসোলেটেড একশো বেড। রাঙামাটি সরকারী কলেজের নবনির্মিত একাডেমিক ভবন ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট,এই দুটি প্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত এই বেডগুলো তৈরি করে রেখেছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়াও আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি সনাক্ত হলে তাকে তাৎক্ষনিকভাবে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের একটি পৃথক ভবনে তৈরি করে রাখা হয়েছে ৫ বেড বিশিষ্ট একটি আইসোলেশন ইউনিট।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রামনে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় মাক্স, বিশেষায়িত পোশাক, হ্যান্ড গ্লাবসসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য উপকরণ ইতিমধ্যেই মজুদ করে রাখা হলেও করোনা ভাইরাস সনাক্তের কোনো কিট রাঙামাটিতে নাই বলে জানাগেছে।
সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদকে প্রধান করে এগারো সদস্য বিশিষ্ট্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারসহ আরো একজনকে এই কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর, মেডিকেল কলেজের সহকারি পরিচালক ডা: নীহার রঞ্জন নন্দী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বরুন কুমার দত্ত, শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম খীসা, তথ্য কর্মকর্তা মো: হারুন, ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, সমাজ সেবার উপপরিচালক ওমর ফারুক ও সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা।
এদিকে, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ শওকত আকবর জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিসা সেবা নিশ্চিতে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ও রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের যৌথ সমন্বয়ে করোনা ভাইরাস মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল কলেজের সহকারি পরিচালক ডাঃ নীহার রঞ্জন নন্দী, ডাঃ গৌরব দেওয়ান, ডাঃ এম এ হাই, ডাঃ তাহমিনা দেওয়ান অভি, ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম, ডাঃ ঊসেমং মারমা, ডাঃ তানিয়া দেওয়ান ও জেনারেল হাসপাতালের আরএমও শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ শওকত আকবর খানকে উক্ত মনিটরিং কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
রাঙামাটির সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতাই মূখ্য বিষয়। তিনি বলেন, আসলে করোনা ভাইরাস অতোটা মারাত্মক নয় যদি আমরা সামান্য একটু সচেতন হয়ে চলি। সচেতনতার মাধ্যমে নিজেদেরকে একটু গুছিয়ে চলতে পারলেই করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন সিভিল সার্জন।
[ad_2]