[ad_1]
কুমিল্লা, ০৫ এপ্রিল- বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয় উপেক্ষা করে কুমিল্লার চান্দিনায় বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে ২টি মিলের সহস্রাধিক শ্রমিক।
রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার পশ্চিম বেলাশহর-হাঁড়িখোলা এলাকায় ওই অবরোধ করে তারা।
প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা পর পুলিশের তৎপরতায় অবরোধ তুলে নেয় আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
করোনাভাইরাস সতর্কতায় মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও টানা তিন ঘণ্টা অবরোধে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যানসহ যাত্রীবাহী অনেক যানবাহনও। পরে চান্দিনা থানা পুলিশ, দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিস্তার রোধে ২৬ মার্চ থেকে চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলার সীমান্তবর্তী সানানগরে ঊষা জুট মিল ও নূরীতলায় আশা জুট মিল ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ করা হয়। ৫ এপ্রিল খোলার কথা ছিল। পরবর্তীকালে মিলের ওই ছুটি ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
রোববার সকাল ৮টায় শ্রমিকরা মিলে এসে মিল বন্ধ দেখে তাদের বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে।
শ্রমিক রাবেয়া বেগম জানান, গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত আমরা কাজ করার পর আমাদের ৩ সপ্তাহের বেতন বাকি থাকে। তখন আমাদের বলেছিল ৫ তারিখ মিল খোলার পর আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করবে। কিন্তু রোববার এসে দেখি মিল বন্ধ। এ দিকে সরকার থেকে নাকি প্রতি শ্রমিকের জন্য ৫ হাজার করে টাকা এসেছে। ভাইরাসের কারণে মিল বন্ধ থাকলেও সরকারি ৫ হাজার টাকা ও আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি করি। কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো কথাই পাত্তা দিচ্ছে না।
একাধিক শ্রমিক জানান, টানা ১০ দিন মিল বন্ধ থাকায় আমরা না খেয়ে আছি। অন্যান্য মিলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করার পাশাপাশি সরকারি ৫ হাজার টাকাও প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ঊষা ও আশা জুট মিলে আমাদের পাওনা বেতনও দিচ্ছে না।
মিলের সিবিএ সভাপতি সুজন মুন্সি জানান, মিলের অর্থনৈতিক সংকট থাকায় পাট কেনার জন্য গত দুই মাস পূর্বে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ৩ সপ্তাহের বেতন বকেয়া রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। হঠাৎ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় গত ২৫ মার্চ শ্রমিকদের এক সপ্তাহের বেতন প্রদান করে মিল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
তিনি জানান, মিল খোলার পর তাদের বকেয়া ২ সপ্তাহের বিল প্রদান করা হবে। কিন্তু শ্রমিকরা একটি গুজব রটিয়েছে যে, সরকার শ্রমিকদের মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা দিয়েছে সেটা মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দিচ্ছে না। এমন গুজবকে পুঁজি করে অযথা আন্দোলন শুরু করে। আমি মিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।
এ ব্যাপারে ঊষা জুট মিলের সিনিয়র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কথা বলবে।
চান্দিনা থানার ওসি মো. আবুল ফয়সল জানান, সরকারি ৫ হাজার টাকার অনুদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন একটি গুজব ছড়িয়ে মিলের শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু অতি উৎসাহী লোক এক হয়ে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ বিস্তারে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আমরা মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব উপেক্ষা করে সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘন করে সহস্রাধিক শ্রমিকের গাদাগাদিতে ওই আন্দোলনের বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আহসানুল হক জানান, গত এক সপ্তাহ পূর্বে দাউদকান্দিতে একটি আন্দোলনের পর দাউদকান্দিতে করোনাভাইরাস সন্দেহে একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এ সব আন্দোলনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি।
সূত্র : যুগান্তর
এম এন / ০৫ এপ্রিল
[ad_2]