বুধবার, এপ্রিল ২, ২০২৫

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি জীবনরক্ষা নির্দেশনা

Must read

নোভেল করোনা ভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে সব দেশের জন্য জরুরি ‘জীবনরক্ষা’ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাফেরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেও প্রতিটি দেশকে বার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচও-প্রধান ডা. টেড্রোস অ্যাডহানম গেব্রিয়েসুস সার্স-কোভ-২ (করোনা) ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইরত দেশগুলোর জন্য দুটি নতুন মেন্যুয়াল প্রকাশ করেন।

ডা. গেব্রিয়েসুস বলেন, ‘করোনা মহামারী

দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। তার পরও এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় দেশগুলো স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারছে না। পূর্ববর্তী মহামারীর প্রকোপগুলো প্রমাণ করেছে যে, যখন এর কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থাগুলো হতবিহ্বল হয়ে পড়ে, তখন প্রতিষেধক না থাকাসহ নানা কারণে মৃত্যু নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে আমরা এমনই একটি সংকটের মাঝে রয়েছি। তাই অত্যাবশ্যক স্বাস্থ্য পরিষেবা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। এ পরিস্থিতিতেও অনেক শিশু জন্মগ্রহণ করছে, উদ্ভাবিত প্রতিষেধকগুলো তাই অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে। এখনো বিভিন্ন রোগের জন্য মানুষের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার প্রয়োজন।

ডব্লিউএইচও যে দুটি নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে তার প্রথমটিতে আলোচনা করা হয়েছে, কীভাবে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা অব্যাহত রেখে দেশগুলো মহামারী মোকাবিলায় ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। এর মধ্যে রুটিন টিকাদানসহ উচ্চমানের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবাগুলো পুনর্গঠন ও অ্যাকসেস বজায় রাখার লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক বেশকিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। যাতে গর্ভাবস্থা এবং প্রসবকালীন যতœ, সংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য অবস্থার জন্য চিকিৎসা, রক্ত পরিষেবা এবং আরও বেশকিছু জিনিস অন্তর্ভুক্ত আছে। কোভিড-১৯ ছাড়াও জরুরি স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয়তা মোকাবিলায় এতে পর্যাপ্ত কর্মী বাহিনী নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর প্রথম নির্দেশনা প্রধান ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো-

১. সরকারি নকশা ও ব্যবস্থাপনা এমন সহজ ও সরলভাবে সাজানো, যাতে যে কোনো জরুরি মুহূর্তে সাড়া দেওয়া যায়।

২. জরুরি মুহূর্তে কোন পরিষেবাগুলো প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয়, তা শনাক্ত করা।

৩. পরিষেবা প্রদান ও প্ল্যাটফরমগুলো সবার অনুকূলে আনা।

৪. স্ক্রিনিং, রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসাসহ সব স্তরেই রোগীর প্রবাহ নিশ্চিত করা।

৫. সক্ষমতা অনুযায়ী দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ বা বিদ্যমানদের যথাযথভাবে ভাগ করে দেওয়া।

৬. প্রয়োজনীয় ওষুধ, সরঞ্জাম এবং সরবরাহের প্রাপ্যতা নিশ্চিতের পদ্ধতিগুলো চিহ্নিতকরণ।

সংস্থার দ্বিতীয় নির্দেশনায় পুনরুদ্ধারকৃত কোনো ভবন বা একটি তাঁবু ব্যবহার করে কীভাবে স্ক্রিনিং এবং রোগের ধরন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া হালকা লক্ষণযুক্ত বা শেষ পর্যন্ত রোগীদের যতœ নিতে কীভাবে একটি সম্প্রদায়ের জন্য কমিউনিটি সুবিধা স্থাপন করা যায়। সেই সঙ্গে কীভাবে কোনো হাসপাতাল পুনর্র্নির্মাণ করা যায় বা চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে নতুন হাসপাতাল স্থাপনের কথাও এতে আলোচনা করা হয়েছে। চলমান সংকট শেষ হয়ে গেলেও এসব স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা পাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশনায়।

এ দুটি নির্দেশনাকে ‘জীবনরক্ষাকারী’ আখ্যা দেন ডা. গেব্রিয়েসুস। এ ছাড়া তিনি তার বক্তব্যে কিছু দেশ কীভাবে নাগরিকদের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণকে সীমাবদ্ধ করে সংক্রমণের হার কমিয়ে রাখতে পেরেছে তা নিয়েও আলোচনা করেন। খবর নিউজ হাবের।

সুত্র : আমাদের সময়

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article